পাক বাহিনীকে পরাস্ত করেছিল পাবনাবাসী: রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে কোনো সামরিক সহায়তা ছাড়াই পাবনার সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা প্রতিরোধকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবগাথা হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় পাবনা প্রেসক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি।
স্মৃতিচারণকালে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আক্রমণ শুরু করলে পাবনার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
‘২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা যুদ্ধ করে আধুনিক সমরাস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীকে সমূলে পরাস্ত করে পাবনাকে মুক্ত করা হয়। ২৯ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাবনাকে হানাদারমুক্ত রাখা ছিল পাবনাবাসীর অসীম সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’, প্রতিরোধের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বকুল, শহীদ নূর, বেবী ইসলাম, রবিউল ইসলাম, অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ তার সহযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
‘পাবনার সাংবাদিকরা দেশের সংবাদশিল্পে সবসময়ই গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। রণেশ মৈত্র, মির্জা শামসুল ইসলাম ও আনোয়ারুল হকের মতো পথিকৃৎ সাংবাদিকদের কাছ থেকে সাংবাদিকতা শেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল’, পাবনায় নিজের সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি পাবনার বরেণ্য রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম, জহুরুল ইসলাম বিশু, রবিউল ইসলাম রবি, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যক্ষ শিবজিত নাগ ও মোক্তার হোসেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান ও এবিএম ফজলুর রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ স্মৃতিচারণ ও সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাত সাড়ে নয়টায় রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে গমন করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার (৩০ মার্চ) পারিবারিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এরপর আগামী মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

