উল্লাপাড়া
সরকারি জমিতে জামায়াত নেতার চাষাবাদ, বললেন ‘এখন আমাদের সময়’

ছবি: আগামীর সময়
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চার বিঘা আয়তনের সরকারি খেলার মাঠ দখল করে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে সলপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হেকমত আলী সরকারের বিরুদ্ধে।
মাঠটিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করায় খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে জমিটি নিজেদের দাবি করে এ নিয়ে মামলা চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন হেকমত আলী। অন্যদিকে, জমিটি সরকারি সম্পত্তি বলে নিশ্চিত করেছে ইউনিয়ন পরিষদ।
ঘটনাটি ঘটেছে উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়নের নওকৈর পূর্বপাড়া গ্রামে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ও শুক্রবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করেন। এতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাঠটি চাষ করেছেন হেকমত আলী সরকার, আল-আমিন সরকার, নূর মোহাম্মদ সরকার, ওমর আলী সরকার, হারান সরকার ও তোফাজ্জল সরকার বলে অভিযোগ তাদের। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জায়গাটি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশের সব হাসপাতাল লাইব্রেরিতে রাখতে হবে জিয়া-খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিন বই
১৬ অক্টোবর ২০২৬
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন বলেন, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। ২০১৯ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শওকত ওসমান গৃহহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনায় সেখানে মাটি ভরাট করেছিলেন। তবে সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হয়নি। এর পর থেকে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট খেলত।
তবে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত হেকমত আলী সরকার। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের জিম্মি করে আমাদের জায়গা দখল করে জমিতে মাটি ভরাট করেছিল। এখন আমাদের সময় এসেছে, তাই আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছি।’
জমিটি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সলপ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, জমিটি সরকারি সম্পত্তি। সাবেক চেয়ারম্যান শওকত ওসমান সেখানে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করেছিলেন। এর পর থেকে জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণেরা সেখানে খেলাধুলা করেন বলে তিনি জানেন। সরকারি জমি ব্যক্তিগত চাষাবাদে ব্যবহারের অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




