ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ফাতেহা, টাকার অভাবে থমকে আছে চিকিৎসা

মা আসমা আক্তারের কোলে তানহা আক্তার ফাতেহা
বয়স মাত্র চার বছর। যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে দিন কাটায়, সেই বয়সেই তানহা আক্তার ফাতেহার দিন কাটছে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন শিশুটির অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা করাতে পারছে না পরিবার।
ফাতেহার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বড়তলী বানিহারী ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে। প্রায় দেড় বছর ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিল সে। পাঁচ-ছয় মাস আগে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার মাথায় ব্রেন টিউমার শনাক্ত করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে ফাতেহার পরিবারে নেমে এসেছে আরেক বিপর্যয়। তার বাবা নিজাম উদ্দিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে মারা যান। স্বামীকে হারানোর পর ছোট মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্বও এসে পড়ে বিধবা মা আসমার ওপর। কিন্তু সংসার চালানোর মতোই মেয়ের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও এখন তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফাতেহার মা আসমা বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ নেই। বাপহারা মেয়েটিকে নিয়ে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছি। চিকিৎসকেরা আগেই অস্ত্রোপচার করাতে বলেছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে করাতে পারিনি। এত টাকা আমি কোথায় থেকে পাব? আমি আমার মেয়েটিকে বাঁচাতে চাই। সমাজের দানশীল মানুষ ও সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।’
ফাতেহার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পারায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মা আসমা আক্তার। তার ভাষ্য, দ্রুত চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ফাতেহার পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল মানুষ, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। চার বছরের শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তার জীবন বাঁচানোর লড়াই কিছুটা হলেও সহজ হবে বলে আশা করছে পরিবার।






