পানছড়িতে কাটা হয়েছে রাবার ড্যামের ব্যাগ, ‘আয় কমবে’ কৃষকের

ছবি: আগামীর সময়
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় রাবার ড্যামের ব্যাগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে পানছড়ির বৃহৎ এলাকায় শুকনো মৌসুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে সেচের। ফলে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে কৃষকদের মধ্যে। কমতে পারে তাদের আয়। তাদের দাবি, মৌসুম শুরুর আগেই ঠিক করা হোক ড্যামটি।
২০১৩ সালে চেঙ্গী নদীর ওপর ৮০ মিটার দৈর্ঘের রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়। এর লক্ষ্য ছিলো শুকনো মৌসুমে ৪৫০ হেক্টরের অধিক জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা। এটি ড্যামটি নির্মাণ করা হয়েছিল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে।
নির্মাণের পর এলজিইডি সুবিধাভোগীদের হাতে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তর করে। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে পানছড়ির চেঙ্গী নদী রাবার ড্যাম ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি।
কিছুদিন আগে সমিতির সদস্যরা দেখেন, ড্যামের দুটি ব্যাগের একটিতে প্রায় দেড় ফুট কেটে দেওয়া হয়েছে।
কখন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি সমিতির নেতারা। তারা জানান, এখন বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা এলজিইডিকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে থানায়।ব্যবস্থাপনা কমিটির অর্থ সম্পাদক দুর্বাদল চাকমা বলেছেন, বর্ষাকালে রাবার ড্যামটির ব্যাগ খালি অবস্থায় রাখা হয়। এতে বর্ষার পানির তীব্র স্রোত রাবারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাবারের কোনো ক্ষতি হয় না। এই অবস্থার মধ্যে কে বা কারা ড্যামের একটি ব্যাগ কেটে দেয়।
‘ব্যাগটি এমন জায়গায় কাটা হয়েছে, যখন পানি দ্বারা ফোলানো হবে, তখন কাটা অংশটি নিচের অংশে পড়ে যাবে। ফলে ব্যাগের মধ্যে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত্র এই অংশটি মেরামত করা স্থানীয়ভাবে সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি আমরা এলজিইডিকে জানিয়েছি। তাদের সহযোগিতা কামনা করেছি’, যোগ করেন দুর্বাদল।
এদিকে ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। তাদের দাবি দ্রুত এটি ঠিক করা হোক।
ড্যামের সুবিধাভোগী কৃষক ও লতিবান গ্রামের বাসিন্দা আনন্দ মোহন চাকমা বলেছেন, ‘আমার নিজস্ব জমি থাকলেও বোরো চাষ করতে পারতাম না পানির অভাবে। চেঙ্গী নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের পর থেকে বোরো চাষ করতে পারছি।’
এই কৃষকের ভাষ্য, ‘আগে আমার জমি এক ফসলি ছিল। এখন সেটি দুই ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ড্যাম অকেজো হলে আমার জমি আবার আগের মতো এক ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে। আমার আয়ও অর্ধেক হয়ে যাবে।’
রাবার ড্যাম ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি দেবাশীষ চাকমা জানিয়েছেন, ‘আমরা বিষয়টি সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসন ও এলজিইডিকে জানিয়েছি। আশা করছি, বোরো মৌসুম শুরুর আগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাগ মেরামত করা হবে। তা না হলে হাজারের অধিক কৃষক সেচের অভাবে বোরো চাষ থেকে বঞ্চিত হবে।’
এলজিইডি খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার রহমান বলেছেন, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে একটি প্রকল্পের অধীনে সারা দেশে কয়েকটি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছিলো। এ বছর জুন মাসে সেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন আমরা একটি প্রাক্কলন তৈরি করে ঢাকায় পাঠাব। বরাদ্দ এলে তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।







