কক্সবাজারের হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের থাকা নিয়ে এমপির সতর্কবার্তা

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া আবাসিক হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের কথিত প্রেমিকের সঙ্গে থাকার সুযোগ দিলে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না।
চলতি মাসে কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৩) মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে তার থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ৮ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের পর দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ‘তানজু আক্তার’ নামে প্রেমিক রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের একটি হোটেলে ছিলেন তাজমিন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তার বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর।
আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছিলেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক স্বপ্না।
একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে এলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের থাকার বিষয়টি এক রকম। কিন্তু কিছু হোটেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা কথিত প্রেমিকের সঙ্গে এসে অবস্থান করছে বলে অভিযোগ আছে। বয়স ১৮ বছর না হলেও পরিচয়পত্র ছাড়াই তাদের কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
এসব বিষয় দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, কুমিল্লার ওই ঘটনার সঙ্গে কক্সবাজারের নামও আলোচনায় এসেছে। নেতিবাচক প্রচারণার কারণে পর্যটকেরা যেন কক্সবাজারবিমুখ না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কক্সবাজার ইনস্টিটিউট ও পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান। এতে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং পর্যটন ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।
সভায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের দুর্ঘটনাগুলোও আলোচনায় আসে। গত ১৭ অক্টোবর মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এর চার দিন পর, ২১ অক্টোবর হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে মারা যান পাঁচ পর্যটক।



