দুর্গাপুরে রেললাইন সম্প্রসারণে আশার আলো, পরিদর্শনে যাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদল। এ সফরকে ঘিরে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও প্রত্যাশা।
দীর্ঘদিন ধরে পূর্বধলার জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনীতিতে আসবে বড় পরিবর্তন।
সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে নেত্রকোনার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন ডেপুটি স্পিকার। তার সঙ্গে থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বেলা ১২টায় জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করবে প্রতিনিধি দলটি। পরে বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ঘুরে দেখার পর বিকেল ৩টায় দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তারা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত দুর্গাপুর ও বিরিশিরি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র। সোমেশ্বরী নদী, গারো পাহাড়, স্বচ্ছ নীল জলের লেক ও চীনামাটির পাহাড় দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন অনেকেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রেল যোগাযোগ চালু হলে নিশ্চিত হবে সরাসরি ঢাকা থেকে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত এবং পর্যটন শিল্পে আসবে নতুন গতি। অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ রেললাইন। বিজয়পুরের চীনামাটি, সোমেশ্বরী নদীর বালি-পাথর এবং কৃষিপণ্য কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে হবে নতুন কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়ন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খোকন হোসাইন জানান, রেললাইন চালু হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে সড়কপথে মালামাল পরিবহনে পড়তে হয় ক্ষতির মুখে। ট্রেন চালু হলে পরিবহন খরচ কমবে এবং পণ্য পরিবহন হবে আরও নিরাপদ।
ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম বলেন, জারিয়া থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ করা গেলে সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে দুর্গাপুর। এতে আরও এগিয়ে যাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাত।
শিক্ষার্থী রাজশ্বেরী রায় আরাধ্যের ভাষ্য, দুর্গাপুর থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হলে উচ্চশিক্ষার জন্য সহজ হবে যাতায়াত। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হবে নতুন সুযোগ।
হাজং সম্প্রদায়ের পল্টন হাজং বলেন, রেল যোগাযোগ চালু হলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ যাতায়াত করা যাবে কম খরচে। এতে অনেক কমে আসবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।
গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ শহিদুল্লাহ খান জানান, রেললাইন চালু হলে কৃষিপণ্য, পাহাড়ি ফলমূল, বালি ও চীনামাটি সহজে পরিবহন করা যাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে । এতে স্থানীয় অর্থনীতি হবে আরও শক্তিশালী।
দুর্গাপুরবাসীর প্রত্যাশা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ সফরের মধ্য দিয়ে বহুদিনের দাবির বাস্তবায়নের পথ খুলবে। তাদের বিশ্বাস, জারিয়া-ঝাঞ্জাইল থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবেন সংশ্লিষ্টরা।




