ইঞ্জিন বিকল হয়ে মিয়ানমারের জলসীমায়, ৪ মাস পর মুক্ত ১৪ জেলে

ছবি: আগামীর সময়
প্রায় চার মাস পর মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছেন ১৪ জেলে। শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে তারা পৌঁছান টেকনাফ পৌরসভার ট্রানজিট জেটিতে। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা এবং বাকি ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জলসীমায়। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে মংডু এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বন্দি করে রাখা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর তৎপরতা ও সমন্বয় চালিয়ে আসছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে নেওয়া হয় হস্তান্তরের প্রস্তুতি।
ফিরে আসা মহেশখালীর জেলে মোহাম্মদ রাসেল জানান, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। পরে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে মংডুর একটি জেলে আটকে রাখে। প্রায় চার মাস পর মুক্তি পান তারা।
শনিবার দুপুর থেকেই টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে অবস্থান নেয় বিজিবির একটি দল। দেশে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেন মুক্ত জেলেরা। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে অনেকেই হয়ে পড়েন আবেগাপ্লুত।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।
তার ভাষ্য, মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমেই আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




