পিরোজপুরে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তাঁতীদল নেতা গ্রেপ্তার

তাঁতীদল নেতা মানিক
পিরোজপুরের কাউখালীর শিয়ালকাঠীতে জেসমিন নামের এক নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাদারীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও এসআরবি।
পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রবিবার উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জেসমিন বেগমের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই গ্রামের মৃত আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মরহুম কেরামত আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর কয়েক বছর ধরে ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন তিনি।
ঘটনার রাতে জেসমিন বেগম বাড়িতে একাই ছিলেন। সকালে স্বজনরা বাড়ির পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তারা আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান এবং ঘরের ভিতরে খাটের উপরে গৃহবধূর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহ ময়নাতদন্ত করে রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের ভাই নাজির হোসেন জানালেন, তার বোন জেসমিন স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পিরোজপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে বিয়ে করেন। মানিকের কাছে তার বোন জেসমিন প্রায় ছয় লাখ টাকা পেতেন। এই টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা যায়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানিকের সহযোগিতায় একাধিক আসামি তার বোনকে গণধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ নাজির হোসেনের। হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও আসামিরা চুরি করে নিয়ে গেছেন বলে দাবি তার।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেসমিনের মেয়ে কাকন মনি বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কাউখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এসআরবির সহায়তায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেসমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি কার্যক্রম অব্যাহত।




