অসময়ে কল্যাণ আনবে কল্যাণভোগ

নতুন জাতের আম কল্যাণভোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন জাতের আম কল্যাণভোগের আবাদ বাড়ছে। কয়েক বছর আগেও যে জাতের অস্তিত্ব ছিল সীমিত কয়েকটি বাগানে। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। ফলন, স্বাদ, তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচ এবং মৌসুমের বাইরে ভালো দাম— এসব কারণে চাষিদের মধ্যে এই জাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। পুরনো আমগাছে আগের ডগা সংযোজন (টপওয়ার্কিং) করে সহজেই জাত পরিবর্তন করতে পারায় দ্রুত বাড়ছে এর আবাদ।
কল্যাণভোগের যাত্রা শুরু ২০১৭ সালে। ওই বছর ভারত থেকে ছয়টি ডগা (সায়ন) এনে গোমস্তাপুরের আমচাষি রবিউল ইসলামের বাগানে টপওয়ার্কিং করা হয়। কয়েক বছর ফলন ও বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণের পর জাতটি চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। রবিউলের কাছ থেকে সায়ন নিয়ে আশপাশের কয়েকজন চাষি এরই মধ্যে অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে কল্যাণভোগের বাগান করেছেন। এর বাইরে জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরাও সায়ন ও চারা সংগ্রহ করছেন।
রবিউল ইসলামের গোমস্তাপুরের খয়রাবাদ এলাকার বাগানে এবার প্রায় ১০০ মণ কল্যাণভোগ আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর বড় অংশ বাগান থেকেই অনলাইনে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রতি মণ আম ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। গত মৌসুমে দাম ছিল প্রায় ১৩ হাজার টাকা। গত ৮ থেকে ১০ দিনে প্রায় ৩০ মণ আম বিক্রি করেছেন তিনি।
কল্যাণভোগের বাড়তি আকর্ষণ এর ফলনকাল। জাতটি মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে, অর্থাৎ আমের মূল মৌসুমের বাইরে বাজারে আসে। এ সময় বাজারে অন্য জাতের আমের সরবরাহ কম থাকায় দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা গত কয়েক বছর ধরে ব্যানানা, গৌড়মতি, বারি-৪, আম্রপালি ও কাটিমনের মতো নতুন জাতের আবাদ বাড়াচ্ছেন। সেই ধারায় কল্যাণভোগও জায়গা করে নিচ্ছে। এই আমটির বৈশিষ্ট্য হলো, একটি ডগাতে অন্য আমের মতো একটি আম ধরে না, এক ডগাতেই একাধিক ধরে এবং ওজন গড়ে ৩০০ গ্রাম করে।
চাষিদের আগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় সায়ন ও চারা বিক্রির বাজারেও। রবিউল ইসলাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার কল্যাণভোগের সায়ন বিক্রি করেছেন। আরও প্রায় ২০ হাজার সায়ন বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে— জানালেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি সায়ন ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রায় ৩২ হাজার চারা বিক্রি করেছেন তিনি।



