বড়ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার দাবিতে মানববন্ধন

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বড়ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৪ মে) বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি হয়। মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলছিল, বড়ছড়া পুনরায় ইজারা দিয়ে বালু উত্তোলনের উদ্যোগ নিলে তারা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন। শরণাপন্ন হবেন আদালতের।
তাদের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে গোপনে বড়ছড়া থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন ও বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ মে কুলাউড়া প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সিলিকা বালুর কোয়ারি ইজারা নিয়ে সভা হয়। এরপর বড়ছড়ার ইজারা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু হলে বড়ছড়ার দুই পাড়ের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে ছড়ার ওপর নির্মিত ঢাকা-সিলেট রেলপথের সেতু, ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ-সিলেট সড়ক সেতু এবং বোরো চাষের পানির জন্য নির্মিত স্লুইসগেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের ভাষ্য, অতীতে অবাধ বালু উত্তোলনের কারণে ছড়ার স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বিভিন্ন স্থাপনা।
বরমচাল ইউনিয়নের অন্তর্গত বড়ছড়া সিলিকা বালুর জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। চা বাগানের ভেতর দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়ে ছড়াটি ইসলামাবাদ, নন্দনগর কোনাগাঁও ও লামাপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের পাশ দিয়ে হাকালুকি হাওরে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ছড়াটি ভয়ংকর রূপ নেয়। এতে ছড়ার তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ভাঙন ও ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার আতঙ্ক দেখা দেয়। অতীতে এমন ঘটনার নজিরও রয়েছে।
এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী কোনো সেতু, রেললাইন বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু অতীতে ইজারা দেওয়ার পর প্রভাবশালী মহল আইন অমান্য করে সেতুর নিচ থেকে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক উপায়ে বালু উত্তোলন করেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মৌলভীবাজারের ১৯টি সিলিকা বালু মহালের ইজারার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। বড়ছড়াও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। আদালত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশ ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
এলাকাবাসী ইতোমধ্যে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। মানববন্ধনের মাধ্যমে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বড়ছড়ার ইজারা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন।







