ডিজেল সংকটে উপকূলে আটকা ট্রলার, মাছের দাম বাড়ার আশঙ্কা

ছবিঃ আগামীর সময়
ডিজেল সংকটে সমুদ্রগামী শত শত মাছধরা ট্রলার উপকূলে আটকা পড়েছে। ঈদের আগে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা। এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বাড়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দেশের তৃতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র। এখান থেকে ৮২৫টি সরকারি নিবন্ধিত সমুদ্রগামী ট্রলার চলাচল করে। এ ছাড়া বরগুনা, ভোলা, মহেশখালী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও বিপুল সংখ্যক ট্রলার প্রতিদিন এখানে আসে।
এসব ট্রলারের জন্য প্রতিদিন এক থেকে সোয়া লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয় স্থানীয় তেলের ডিপো ও ফিলিং স্টেশন থেকে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চাহিদামতো জ্বালানি না পেয়ে ট্রলারগুলো সাগরে যেতে পারছে না। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে।
জেলে রফিকুল ইসলাম বলেছেন, এক সপ্তাহ ধরে ট্রলার নিয়ে ঘাটে বসে আছি। তেল না থাকায় সাগরে যেতে পারছি না, আবার বাড়িতেও ফিরতে পারছি না। কবে সাগরে যেতে পারব, আল্লাহই জানেন।
'একটি ট্রলার সাত থেকে আট দিনের জন্য সাগরে যেতে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে ২০০ থেকে ৩০০ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে সাগরে যাওয়া সম্ভব নয়।' জানালেন মাঝি বেল্লাল খা।
তেলের ডিপো মালিক সোহাগ মিয়া জানান, প্রতিদিন তার ডিপোতে এক থেকে দেড় লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ হাজার লিটার। ফলে কোনো ট্রলারকেই চাহিদামতো জ্বালানি দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজা ফিলিং স্টেশনের পরিচালক আসিফ হোসেন জানান, তার স্টেশনে প্রতিদিন এক লাখ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও মিলছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার। এতে পরিবহন খাতের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে, ট্রলারগুলোকে তেল দেওয়ার সুযোগ নেই।
মহিপুর আড়ৎদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন সাহা বললেন, প্রতিটি ট্রলারে ৫ থেকে ৭ জন জেলেকে বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। তাদের খরচ বহন করতে গিয়ে অনেক মালিক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। দ্রুত তেলের সরবরাহ না বাড়ালে মৎস্য খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার মত, এ অবস্থা চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে মাছের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তখন ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের দাম বাড়বে।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তেলের পাম্প মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন রুপালি ইলিশসহ কয়েক হাজার টন সামুদ্রিক মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

