ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামির ফাঁসির রায়

আসামি আবু তাহের
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাঁচ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম আক্তার তোয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
আজ সোমবার এই রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ছালেহুজ্জামান। ঘটনার প্রায় চার মাসের মাথায় পাঁচ কার্যদিবসে এই রায় দেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম। তিনি জানান, জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া হত্যার পর মরদেহ গুম করার অপরাধে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় আসামিকে।
এজাহারের বরাতে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় আবু তাহের। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন আবু তাহের।
ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখেন অভিযুক্ত। পরে তিনি পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওইদিন রাতে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি পুলিশের কাছে এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল রবিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। চার্জ গঠনের পর মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে রায় ঘোষণা করা হয়।
আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিহত শিশুটির বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নিহত তাবাসসুম ছিল তার মা-বাবার একমাত্র মেয়ে। শিশুটির বাবা পেশায় টেইলার্স কর্মচারী এবং মা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করেন।





