কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে টানা কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে বোরো ধান এবং ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়া এবং জমিতে পানি জমে থাকার কারণে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, গত রবিবার ভোর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা ঝড়-বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পৌরসভাসহ চারটি ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়ি ও গাছপালা উপড়ে গেছে। একই সঙ্গে দিনমজুর ও পরিবহন শ্রমিকরা কাজে বের হতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।
বুলাকীপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, ভুট্টা মাড়াই করে ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে অনেক ভুট্টা ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। মাঠের ভুট্টা ও ধানগাছও মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
পালশা ইউনিয়নের আমড়া গ্রামের কৃষক মো. নাদিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জমিতে পানি জমে থাকায় বোরো ধানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ফসল নষ্ট হওয়ায় দেনা পরিশোধ ও পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি সহায়তা দাবি করেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাটে প্রায় ৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে এর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান, কালবৈশাখীর প্রভাবে বোরো ধান ও ভুট্টার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।




