চাটখিলে ‘ভুল চিকিৎসায়’ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর স্বজনদের

ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর করেছেন শিশুটির স্বজনরা। ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন শিশুটির স্বজনরা। হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার বিকাল সোয়া ৩টা থেকে রাত পৌনে ৮ পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।
নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে হাসপাতালের নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এর কিছুক্ষণ পর রিমির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। বিকাল ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানও ঘটনাস্থলে যান। ইউএনও ও ওসি শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেছেন, ‘শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’ স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালিতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানিয়েছেন, শিশুটির নিউমোনিয়ার উপসর্গ ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, শিশুর মৃত্যুর পর তার স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
ইউএনও মিজানুর বললেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাওয়ার আগে নিহত শিশুর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন।
চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ জানান, নিহত শিশুর স্বজনরা থানায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




