বরিশাল
তরমুজে ঠাঁসা আড়ৎ, দাম নিয়ে ক্ষোভ ক্রেতাদের

ছবিঃ আগামীর সময়
তরমুজের ভাণ্ডার বরিশালে এবারে তরমুজের দাম নিয়েই ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। দেশের মোট সরবরাহের ৬৫ শতাংশ তরমুজই বরিশাল বিভাগের। তারপরও এই অঞ্চলে তরমুজের দামে এবার হতাশ জনসাধারণ। পিপাসা মেটানো এই ফলটির পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকলেও এর দাম সাধারণ মানুষের নাগালে নেই।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় তরমুজের আড়ত ও মোকাম ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি আড়তে তরমুজ বোঝাই থাকার পাশাপাশি ঘাটে অর্ধশত ট্রলার মোকামে তরমুজ বিক্রির অপেক্ষায় থাকে এখন প্রতিদিনই।
এখানকার পাইকারি বাজারে তরমুজ কিনতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, দেশি ফল তরমুজ হওয়া সত্ত্বেও দেখছি বিদেশি ফলের দাম কম। তরমুজের দামটা অতিরিক্ত। বরিশালে এত তরমুজ থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ার বিষয়টিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬২ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমিতে। তবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭০ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এতে অগ্রগতির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১২ দশমিক ২৪ শতাংশ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বরিশাল জেলায় তরমুজ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮০৯ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ ২ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। পিরোজপুর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৭০ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ৩৯৬ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৩২ দশমিক ৯ শতাংশ।
ঝালকাঠী জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৯ হেক্টর জমিতে। সেখানে ১২৭ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা প্রায় ১০৬ দশমিক ৭ শতাংশ। পটুয়াখালী জেলায় চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৮ হাজার ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১২২ শতাংশ।
দ্বিতীয় বৃহত্তম তরমুজ উৎপাদনকারী জেলা ভোলায় আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৯ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এতে অর্জনের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৬ দশমিক ৯ শতাংশ। বরগুনা জেলায় এ বছর তরমুজ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে। সেখানে আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৩২৪ হেক্টর জমিতে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে জনপ্রিয় এই ফলটি। এতে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে তরমুজ। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কিনতে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চাষি সামন্ত ঘোষ বললেন, তরমুজ এখনও পরিপক্ব হয়নি। যারা তরমুজ নিয়ে বরিশালের মোকামে বিক্রি করছেন, তারা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এমনটা করছেন।
২৩৩ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেছি উল্লেখ করে পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার তরমুজ চাষি কাজল মাঝি জানান, বড় ট্রলারে তরমুজ নিয়ে বরিশাল পোর্ট রোড ঘাটে এসেছিলাম। ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তবে তরমুজের সরবরাহ বাড়লে আরও কম দামে বিক্রি করতে হবে আমাদের। এতে করে খুচরা বাজারে তরমুজের দাম কমবে।
'সরবরাহ দিন দিন বাড়বে এবং তা স্বাভাবিক হলে তরমুজের দাম কমে যাবে। তবে অনেক চাষি রমজান মাসকে পুঁজি করে বেশি দাম হাঁকেন। তাই আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে তরমুজ কিনতে হয়। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়ে।' জানালেন পোর্ট রোডের মনোয়ারা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মামুনুর রহমান জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা আগাম অপরিপক্ব তরমুজ বাজারে তুলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। বাজারে পরিপক্ব তরমুজ উঠতে শুরু করলে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

