স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম ও নষ্ট পাউরুটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

স্কুল ফিডিংয়ের পচা ডিম— সংগৃহীত
মেহেরপুরের গাংনীর বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি ডিম পচা ও নিম্নমানের ছিল।
এর আগে বিদ্যালয়ে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি সরবরাহের ঘটনা 'আগামীর সময়'সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তার নির্দেশে গাংনী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুদ্দৌলা ও এস এম জয়নুল ইসলাম তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আজ শুক্রবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জন্য সরবরাহ করা ১৩৩টি ডিমের মধ্যে ২০টি নিম্নমানের ছিল।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিদ্যালয়ের গার্ডিয়ান কমিটি ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সুশীলন’-এর নজরে আনা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ডিমগুলো অপসারণ করে নতুন ও মানসম্মত ডিম সরবরাহ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাবার বিতরণ নিশ্চিত করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে মান নিয়ন্ত্রণে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার ‘সুশীলন’ এনজিওর সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের কারণে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মৈত্র নীরব ছিলেন। তাদের এই ভূমিকার সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি সরবরাহ করেছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, এ ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এতে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, ঘটনার দিনই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।





