নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা: প্রধান আসামি নূরা গ্রেপ্তার

সংগৃহীত ছবি
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা এবং ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি হলেন, হজরত। কিশোরীকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ আসামির মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আছে আরও দুই আসামি।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে একাধিক বিশেষ দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে পৃথক অভিযানে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক রেজাউল করিম মল্লিক পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। এ নিয়ে হত্যা মামলার মোট ৯ আসামির মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবশিষ্ট দুজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দল কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ভার নেয় না; অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।’
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনার দাবি উঠেছে।

