পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া ৭ ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয়

সংগৃহীত ছবি
ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধ সময়কার। পাকিস্তানিরা ল্যান্ডমাইন ব্যাবহার করেছিল এ দেশের স্বাধীনতা আটকে দেওয়ার জন্য। প্রবল প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয় তারা। ফেলে যায় ল্যান্ডমাইনসহ তাদের যুদ্ধ সরঞ্জাম। দেশের দক্ষিণের জনপদ চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টক্ষেতে সেচ নালা তৈরির সময় কৃষকের কোদালের সঙ্গে উঠে আসে তেমনই সাতটি তাজা ও শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন। যেগুলো গত ২৯ দিন ধরে পুলিশের পাহারায় রাখা হয়েছিল সেই ভুট্টাক্ষেতে, যা শনিবার (২৮ মার্চ) নিষ্ক্রিয় করেন সেনাবাহিনীর বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের সদস্যরা।
ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয়ের সময় প্রচণ্ড কম্পন আর বিকট শব্দে আলোড়ন তৈরি হয় পুরো জনপদজুড়ে। বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়াতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় আকাশ।চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মর্কতা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সদর উপজেলার দিননাথপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলীর মাখালডাঙ্গা গ্রামের স্কুলপাড়া মাঠে রয়েছে চাষের এক খণ্ড জমি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সেই জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে নালা (ক্যানাল) তৈরির জন্য কোদাল দিয়ে খুঁড়ছিলেন হযরত আলী। হঠাৎই মাটির তলে কোদালের মাথায় অনুভব করেন ধাতব কোনোকিছুর অস্তিত্ব। ফের কোপ দিতেই কোনোকিছু বুঝে উঠার আগেই কোদালের সঙ্গে উঠে আসে ৩টি ল্যান্ডমাইন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে এলাকাটি ঘিরে রাখে নিরাপত্তার স্বার্থে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। এরপর শনিবার সকালে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশন থেকে ঘটনাস্থলে আসে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের ১৫ সদস্যের একটি দল। যার নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন রিফাতুল ইসলাম। এরপর দুপুরে সেখান থেকে একে একে তারা মাটির তল থেকে বের করে আন্নে ৭টি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন। বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা প্রথমে ৪টি ও তার পরে ৩টি ল্যান্ডমাইন নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় বিকট শব্দ ও কম্পনে পুরো এলাকায় আলোড়ন তৈরি হয়। আশপাশের জনপদের বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় নিরাপদ দূরত্বে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ল্যান্ডমাইনগুলো যেখানে নিষ্ক্রিয় করা হয় সেখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

