প্রেমের টানে ফিলিপাইন থেকে এসে ফেনীতে বিয়ে তরুণীর

সংগৃহীত ছবি
ভালোবাসা কখনও দূরত্ব মানে না। দেশ-সীমানা পেরিয়েও কখনও কখনও পৌঁছে যায় মনের মানুষের কাছে। তেমনই এক ভালোবাসার গল্পের সাক্ষী হয়েছে ফেনী। প্রেমের টানে সুদূর ফিলিপাইন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন তরুণী জেনি। এরপর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন নোয়াখালীর যুবক সুজন পালের সঙ্গে।
বুধবার (৪ মার্চ) রাতে ফেনী শহরের কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সনাতন ধর্মীয় রীতি মেনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে হয় তাদের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বর সুজন পাল (৩৪) নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার দরাপনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা হিরলাল পাল। কাজের সূত্রে সুজন দীর্ঘদিন কাতারে ছিলেন।
২০১৮ সালে কাতারেই ফিলিপাইনের তরুণী জেনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে পরিচয়, পরে বন্ধুত্ব। ধীরে ধীরে সেই সম্পর্ক গড়ায় গভীর প্রেমে। প্রায় আট বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের পর তারা একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতেই জেনি হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসেন।
বিয়ের পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে জেনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পূর্ণতা পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। বাংলাদেশে এসে আমার অনেক ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ, পরিবেশ ও আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
বর সুজন পাল বলেছেন, দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের পর আমরা আজ এক হলাম। নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ ও দোয়া চাই।
বিয়ে পরিচালনা করেন পুরোহিত শ্রী নিমাই চন্দ্র চক্রবর্তী। তার ভাষ্য মতে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সুজনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন।
ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি পেরিয়ে এই প্রেমের গল্প এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দূর দেশ থেকে আসা জেনিকে দেখতে এবং নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে স্থানীয়দের ভিড়ও দেখা গেছে।
এর আগেও ফেনীতে এক বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করতে শ্রীলঙ্কা থেকে এসেছিলেন এক তরুণী।

