ঈদে পর্যটকদের টানতে প্রস্তুত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্র

ছবিঃ আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে। নগরীর পার্ক, ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
রংপুর নগরীর জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকলি ওয়াটার পার্ক, রংপুর চিড়িয়াখানা, ভিন্ন জগৎ, তাজহাট জমিদারবাড়ি, আনন্দ নগর, তিস্তা পার্ক এবং তিস্তা সেতু। এসব স্থানে ঈদকে ঘিরে দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চিকলি ওয়াটার পার্ক বর্তমানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনোদন স্পটগুলোর একটি। প্রায় ১০০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে বিভিন্ন ওয়াটার রাইড, শিশুদের খেলার স্থান, নাগরদোলা, কৃত্রিম ঝর্ণা ও সবুজে ঘেরা বাগান।
অন্যদিকে, রংপুর চিড়িয়াখানা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তীসহ নানা প্রাণী ছাড়াও শিশুদের জন্য রয়েছে বিনোদন রাইড, কৃত্রিম হ্রদ ও ‘ভূতের গুহা’।
ভিন্ন জগৎ বাংলাদেশের প্রথম প্লানেটেরিয়াম পার্ক হিসেবে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। এখানে রয়েছে মহাবিশ্ব সৃষ্টির ধারণা উপস্থাপন, কৃত্রিম স্থাপনা, ট্রেন, উড়োজাহাজসহ নানা বিনোদন ব্যবস্থা। পর্যটকদের জন্য আবাসন ও আধুনিক সুবিধাও রয়েছে।
ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে তাজহাট জমিদারবাড়ি বরাবরের মতোই দর্শনার্থীদের টানে ভরপুর থাকবে। একইভাবে পীরগঞ্জের আনন্দ নগর-এ রয়েছে আধুনিক রাইড ও নৈসর্গিক পরিবেশে বিনোদনের নানা আয়োজন।
এছাড়া মিঠাপুকুরে নবনির্মিত ফকিরবাড়ি পল্লী জাদুঘরে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি এবং বিশ্রামের জন্য কুঁড়েঘর।
ঈদ উপলক্ষে এসব বিনোদনকেন্দ্রে আগের মতোই মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, ঈদ উপলক্ষে বিনোদন পার্কগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি থাকবে। এছাড়াও টহল টিম থাকবে প্রতিটি স্পটের আশেপাশে। সবমিলিয়ে বিনোদন পার্কে যাতে ধরনের কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রস্তুতি রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জলক্রীড়া, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও ঐতিহাসিক ভ্রমণের সমন্বয়ে রংপুরে এবারের ঈদ ছুটি হয়ে উঠবে আনন্দ, স্বস্তি ও বিনোদনে ভরপুর।

