ঘুষ না দেওয়ায় কৃষকের সবজি ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ বাঘখালী রেঞ্জের বিরুদ্ধে

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ মোস্তফা। ছবি: আগামীর সময়
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাশের রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের মহিষখুম এলাকায় ঘুষ না দেওয়ায় এক কৃষকের সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোহাম্মদ মোস্তফার দাবি, বাঘখালী বিটের বনকর্মীরা প্রথমে ৫০০ টাকা এবং পরে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার ৬০ শতক জমির বিভিন্ন সবজি কেটে ও তুলে নষ্ট করা হয়েছে। পরে কিছু সবজি নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মোস্তফা ও তার স্ত্রী মোহছেনা বেগম বর্গা নেওয়া জমিতে সবজি চাষ করে সংসার চালান। চলতি মৌসুমে স্থানীয় ভিলেজার আবু সালামের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকায় ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে ছয় জাতের সবজি চাষ করেন তারা। জমিতে বেগুন, ঢেঁড়স, শিম, ভুট্টা, ফল ও তিতকরলা চাষ করা হয়েছিল।
মোস্তফার দাবি, সবজি চাষে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। মেয়ের স্বর্ণ বন্ধক রেখে আশা এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ধারদেনা করেও চাষাবাদে টাকা বিনিয়োগ করেন। ভালো ফলন হলে প্রায় চার লাখ টাকার সবজি বিক্রির আশা করেছিলেন। সেই অর্থ দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের খরচ মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
মোস্তফা জানিয়েছেন, বাঘখালী বিটের বনকর্মীরা দফায় দফায় টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার ক্ষেতের বেগুনের ২ হাজার ৮০০টি চারার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০টি তুলে ফেলা হয়েছে। ১০০ তালি শিমের সবগুলো নষ্ট করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০টি ভুট্টার চারাও তুলে ফেলার অভিযোগ করেছেন। ১০০ তালি ফলের মধ্যে প্রায় ৫০ তালি এবং ৩০ তালি তিতকরলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানিয়েছেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র। তাদের নিজস্ব জমিজমা নেই বললেই চলে। জীবিকার তাগিদে তারা বনভূমির আশপাশের জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালান। এভাবে একজন কৃষকের ফসল নষ্ট করে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাঘখালী বিটের ডেপুটি রেঞ্জার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে বড় ধরনের বনভূমি দখলের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় দখল করা জায়গা থেকে কিছু সবজির চারা উপড়ে ফেলা হয় এবং বনকর্মীরা কিছু চারা সঙ্গে নিয়ে আসেন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সহকারী বন সংরক্ষককে (এসিএফ) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




