বিজিসির পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাইনবোর্ড পাহারায় নিরাপত্তা প্রহরী!

কাউনিয়া উপজেলার তকিপল হাটে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের সাইনবোর্ড। ছবি: আগামীর সময়
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তকিপল হাটে বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের (বিজিসি) পাট ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের এখন আর কোনো কার্যক্রম নেই। অবকাঠামোও নেই বললেই চলে। পড়ে আছে একটি জরাজীর্ণ সাইনবোর্ড, ভাঙাচোরা টিনের চালা ও লৌহধ্বংসাবশেষ। অথচ প্রায় ৩০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ওই সম্পত্তি পাহারার জন্য একজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্বে আছেন। সরকারি বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তিনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তকিপল হাটের কসাইখানার পেছনে আগাছায় ভরা ময়লা-আবর্জনার স্তূপের মধ্যে পড়ে আছে একটি লৌহধ্বংসাবশেষ। পাশে রয়েছে ভঙ্গুর একটি টিনের চালা। আর জরাজীর্ণ একটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘এই সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশ জুট করপোরেশন।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত জায়গাটিতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করা হয়। পাশাপাশি মাদকসেবীদেরও আনাগোনা রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, পাহারা দেওয়ার মতো কিছু না থাকলেও কেন সেখানে নিরাপত্তা প্রহরী রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিজিসি কাউনিয়া পাট ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় এক দশক সেখানে পাট ক্রয় ও প্রক্রিয়াকরণের কার্যক্রম চলে। পরে ১৯৯৩ সালে সরকারের এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিলুপ্ত করা হয়।
এরপর আইনি জটিলতা ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে জায়গাটি ধীরে ধীরে বেদখল হতে থাকে। একসময় সেখানে থাকা অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিও হারিয়ে যায়। বর্তমানে সম্পত্তির সামান্য অংশই বিজিসির দখলে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, বিজিসির কাউনিয়ার সম্পত্তিতে পাট প্রক্রিয়াকরণের যন্ত্র ছাড়া তেমন কিছু নেই। অধিকাংশ জায়গাই বেদখল হয়ে গেছে। সেখানে থাকার মতো পরিবেশও নেই। তাই তিনি মাঝেমধ্যে গিয়ে জায়গাটি ঠিক আছে কি না দেখে আসেন। রাতে সেখানে থাকেন না। একই সঙ্গে তাকে আরও দুটি জায়গার দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।
বিজিসি রংপুরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মশিউর রহমান মন্ডল জানিয়েছেন, আগে সেখানে দায়িত্ব পালন করা নিরাপত্তা প্রহরীকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এখন যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তিনটি জায়গার দায়িত্ব পালন করছেন। লোকবল সংকটের কারণে চক্রাকারে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানালেন, বিজিসির ওই সম্পত্তির ৬০ শতাংশের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বেদখলে চলে গেছে। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ এখনো আছে। সম্পত্তিটি জেলা প্রশাসকের একক রেকর্ডে খাস খতিয়ানে থাকায় মামলা করে সেখানে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




