বৃষ্টিভেজা কুমারে বৈতরণীর জয়

টেকেরহাটে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ছবি: আগামীর সময়
বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। গতকাল শনিবার বৃষ্টিভেজা বিকালে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। প্রায় ৩০টি নৌকার প্রতিযোগিতায় কদমবাড়ী ইউনিয়নের মৃধাবাড়ি গ্রামের নিউটন বসুর ‘বৈতরণী’ প্রথম স্থান অর্জন করে। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে ১৩ সিএফটি রেফ্রিজারেটর।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে ‘আমগ্রাম এক্সপ্রেস’। তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন।
নৌকা বাইচ ঘিরে সকাল থেকেই টেকেরহাটের কুমার নদের দুই পাড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। কখনো বৃষ্টিও হয়েছে। তবে এতে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠদের উপস্থিতিতে নদীর দুই পাড় পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
প্রতিযোগিতা শুরু হলে বৈঠার ছন্দ আর মাঝিদের সম্মিলিত হুংকারে মুখর হয়ে ওঠে কুমার নদ। একসঙ্গে পানিতে পড়তে থাকে বৈঠা। দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে থাকে নৌকাগুলো। দর্শকদের উল্লাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই ভালো গতি ধরে রাখে বৈতরণী। একের পর এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান নিশ্চিত করে নৌকাটি। বিজয়ের পর মৃধাবাড়ি গ্রামের মানুষ ও মাঝিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ।
বৃষ্টির মধ্যেও অনেক দর্শক ছাতা নিয়ে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বাইচ উপভোগ করেন। কেউ বৃষ্টিতে ভিজেছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন নৌকা বাইচের নানা মুহূর্ত। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি অনেকে দীর্ঘদিনের এই লোকজ আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও এসেছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাজির বয়াতি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, রাজৈর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওহাব আলী মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান লেবু ও যুবনেতা খায়ের হাওলাদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
জাহান্দার আলী মিয়া বলেছেন, যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া ও অন্যান্য অপকর্ম থেকে দূরে রাখতে নৌকা বাইচের মতো সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্ব অনেক। একই সঙ্গে স্থানীয় লোকঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকরা জানালেন, নৌকা বাইচ শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, এটি গ্রামবাংলার নদীকেন্দ্রিক জীবন ও লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে।
কুমার নদে নৌকা বাইচ ঘিরে এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে টেকেরহাটে তৈরি হয় মিলনমেলার আবহ। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হাঁক আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে বৃষ্টিভেজা দিনটিও হয়ে ওঠে স্মরণীয়। দিনের শেষে নৌকা ও দর্শকরা ফিরে গেলেও কুমার নদে নৌকা বাইচের সেই উৎসবের রেশ থেকে যায় মানুষের মনে।




