পালংখিয়াং ঝরনা, যেন প্রকৃতির নিজস্ব ক্যানভাস

ছবি: আগামীর সময়
পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা জলধারা, পাথুরে খালের আঁকাবাঁকা পথ আর চারপাশে ঘন সবুজ অরণ্য—প্রকৃতির এমন রূপের দেখা মেলে বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত পালংখিয়াং ঝরনায়। জনবসতি ও নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে থাকা এই ঝর্ণা প্রকৃতিপ্রেমী ও দুঃসাহসী ট্রেকারদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। তবে এর সৌন্দর্য উপভোগের আগে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য পাহাড়ি পথ।
মাতামুহুরী নদীর উপনদী তৈন খালের উজানের দিকে পালংখিয়াংয়ের অবস্থান। স্থানীয়ভাবে পালংখিয়ং নামেও পরিচিত ঝরনাটি বহুস্তরবিশিষ্ট। এর আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম আকর্ষণ তৈন খাল। খালের পাথুরে বুক ধরে এগোতে হয় ঘন বন, লতাগুল্ম, ছোট ছোট ঝিরি আর পাহাড়ি ঢাল পেরিয়ে। কোথাও খালের স্বচ্ছ পানির প্রবাহ, কোথাও সবুজ পাহাড়ের নীরবতা—পুরো পথই যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক ক্যানভাস।
এই পথে যাত্রার আরেকটি আকর্ষণ থানকোয়াইন ঝরনা। দোছড়ি বাজারের দিক থেকে তৈন খাল ধরে এগিয়ে এই ঝরনা পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় হাজরাম পাড়ায়। সেখান থেকে গভীর জঙ্গল ও খাড়া উতরাই-চড়াই অতিক্রম করে পালংখিয়াংয়ের দিকে এগোতে হয়। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই একাধিক জলধারার সম্মিলিত শব্দ শোনা যেতে পারে—যা দুর্গম পথের ক্লান্তির মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।
পথের দুপাশে পাহাড়ের চূড়ায় ছনের ছাউনি দেওয়া পাড়া, বনজ পরিবেশ আর পাহাড়ি জনপদের জীবনযাত্রা এই ভ্রমণকে দেয় ভিন্ন মাত্রা। তবে এখানে ভ্রমণ কেবল সৌন্দর্য দেখার অভিজ্ঞতা নয়; শারীরিক সক্ষমতা, প্রস্তুতি ও সতর্কতারও পরীক্ষা।
পালংখিয়াংয়ের পথে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, উপযুক্ত জুতা, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী ও আলো বহনের সরঞ্জাম সঙ্গে রাখা জরুরি। অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ছাড়া যাত্রা করা উচিত নয়। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল, পিচ্ছিল পাথর ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় আবহাওয়া এবং প্রশাসনিক অনুমতির বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে।
পালংখিয়াংয়ের আকর্ষণ শুধু ঝরনার জলধারায় সীমাবদ্ধ নয়; সেখানে পৌঁছানোর প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি পাহাড়ি পথও ভ্রমণের অংশ। প্রকৃতির এই বুনো সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভ্রমণ—যাতে অক্ষত থাকে পাহাড়, বন, জলধারা ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা।




