কুলাউড়ায় ‘সুকান্ত সাহিত্য আড্ডা’

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য
গণমানুষের কবি বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি খ্যাত সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কুলাউড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সুকান্ত সাহিত্য আড্ডা’।
আজ বুধবার বিকেলে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরিতে স্রোত সাহিত্য পর্ষদ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনার মধ্য দিয়ে কবির জীবন, সাহিত্য ও মানবিক দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, আবৃত্তিশিল্পী ও সাহিত্যানুরাগীরা অংশ নেন।
স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমনের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলম জুবেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি সঞ্জয় দেবনাথ।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করেন লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, কুলাউড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খালেদ পারভেজ বখশ, সংস্কৃতিকর্মী গোলাম মোস্তফা পাভেল, কবি ভানু পুরকায়স্থ, বাসদ (মার্কসবাদী) কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক প্রশান্ত দেব ছানা, দৈনিক আগামীর সময়'র কুলাউড়া প্রতিনিধি খালিক উদ্দিন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি কল্যাণ প্রসূন চম্পু, সাহিত্য অনুরাগী নুরুল ইসলাম খান বাবলা, ‘কামরাঙা’ সম্পাদক কামরুল হাসান, সাংবাদিক এইচ ডি রুবেল, মো. ইব্রাহিম আলী, মো. আজিজুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম কর্ণ, কাওছার আমির বাবুল, তরুণ কবি আহবাব হাছনাত লাবিব প্রমুখ।
আলোচকরা বলেন, মাত্র ২১ বছরের জীবনে সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। অল্প বয়সেই তিনি শোষণ, বৈষম্য ও শ্রেণিবিভক্ত সমাজের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুকান্তের সাহিত্য ও চিন্তার চর্চা আরও বাড়ানো জরুরি।
আলোচনায় সুকান্তের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও উঠে আসে। কিশোরদের সংগঠিত করে তিনি ‘কিশোর বাহিনী’র কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছিলেন। তার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতায় অল্পসংখ্যক সদস্যের এই সংগঠন পরবর্তীতে কয়েক হাজার সদস্যের বৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়।
সাহিত্য আড্ডায় সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ঐতিহাসিক’ কবিতা আবৃত্তি করেন মাজহারুল ইসলাম, ‘লেনিন’ কবিতা আবৃত্তি করেন ভানু পুরকায়স্থ এবং ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতা আবৃত্তি করেন গোলাম মোস্তফা পাভেল।
কবির জন্মশতবর্ষে আয়োজিত এ সাহিত্য আড্ডার মধ্য দিয়ে সুকান্তের সাম্য, দ্রোহ ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্নকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।






