এক মাঠে ১৯৯ পশু কোরবানি, সম্প্রীতির অনন্য নজির

ছবি: আগামীর সময়
চারদিকে সবুজ বৃক্ষঘেরা বিশাল মাঠ। মাঠ জুড়ে শত শত মানুষের উপস্থিতি। কারও হাতে গরু, কারও হাতে খাসি। সবাই ব্যস্ত কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতিতে। কেউ পশু জবাই করছেন, কেউ মাংস কাটছেন। পলিথিন ও কলাপাতার ওপর চলছে মাংস প্রস্তুতের কাজ। সহযোগিতা করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বৈলাজান গ্রামের কোরবানির মাঠে ঈদুল আজহার দিন দেখা যায় এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
পঞ্চায়েত প্রথার ভিত্তিতে পরিচালিত বৈলাজান কোরবানির মাঠে এ বছর কোরবানি হয়েছে ৮২টি গরু ও ১১৭টি খাসি। দুটি ঈদগাহ মাঠ ও সাতটি মসজিদ নিয়ে গড়ে ওঠা এই কোরবানি সমাজে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য ধরে সামষ্টিকভাবে কোরবানির আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ কোরবানির মাঠ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈলাজান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও বৈলাজান যদু সরকার বাড়ি ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে সবাই কোরবানির পশু মাঠে নিয়ে আসেন। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় পশু জবাই, যা চলে দিনভর। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মাংস কাটা ও বণ্টনের কাজ।
প্রতিটি পশু কোরবানির পর মাংসের এক-তৃতীয়াংশ পঞ্চায়েতের জন্য জমা করা হয়। পরে পঞ্চায়েতের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা কোরবানি সমাজের ১ হাজার ৭৬০টি পরিবারের জন্য মাংস ভাগ করে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত করেন এবং বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন। প্রতি ভাগে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গরুর মাংস এবং ২২৫ গ্রাম খাসির মাংস দেওয়া হয়।
পঞ্চায়েতের একাধিক সদস্য উল্লেখ করেন, বৈলাজান কোরবানির মাঠ শুধু পশু কোরবানির স্থান নয়, এটি গ্রামের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এখানে দীর্ঘদিন পর সবার সঙ্গে সবার দেখা হয়। মাঠের একপাশে বসে বিভিন্ন খেলনা, মনোহারী সামগ্রী ও অন্যান্য পণ্যের অস্থায়ী দোকান। শিশু-কিশোর থেকে প্রবীণ, সবাই অংশ নেন উৎসবের আনন্দে।
কোরবানি মাঠ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবলু মাস্টার বলেছেন, প্রায় দুই শতক ধরে বৈলাজান মাঠে এভাবেই সামষ্টিকভাবে কোরবানির আয়োজন হয়ে আসছে। এই আয়োজন গ্রামের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করে। তিনি জানালেন, এ বছর ৮২টি গরু ও ১১৭টি খাসি কোরবানি হয়েছে এবং সব পরিবারের মধ্যে সমান হারে মাংস বণ্টন করা হয়েছে।






