মাদারীপুর
বিদ্যুৎ নেই পাঁচ দিন, নষ্ট হচ্ছে কোরবানির মাংস

সংগৃহীত ছবি
মাদারীপুরের বিভিন্ন গ্রামে টানা পাঁচ থেকে ছয় দিন বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। ঈদুল আজহায় সংরক্ষণের জন্য রাখা কোরবানির মাংস নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হলেও ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ ধীরগতিতে চলছে। ফলে রাজারচর, চরহোগলপাতিয়া, হোগলপাতিয়া, মাদ্রা, আলিনগর, কোলচুরি ও আশপাশের অনেক এলাকায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে মানুষকে।
রাজারচর এলাকার বাসিন্দা রুবেল ফরাজীর অভিযোগ, পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা কোরবানির মাংসের একটি অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যেও মাংস বিতরণ করতে পারেননি। বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি।
বিদ্যুৎ না থাকায় বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণ, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলোও ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্করা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
চরহোগলপাতিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহানুর আকন জানালেন, তার দুই বছরের সন্তান গরমে অসুস্থ হয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘ বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও বিক্রি কমে গেছে। কৃষকরা সেচ ও অন্যান্য কাজ পরিচালনায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ অনেক স্থানে এখনো বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেছেন, ‘অতিরিক্ত গরমে শিশুদের ত্বকের সমস্যা, ডায়রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি বয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত জটিলতার আশঙ্কাও বাড়ে।’
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানালেন, সাম্প্রতিক ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে একাধিক এলাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
খোয়াজপুর জোন বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা জানালেন, ঈদের ছুটির মধ্যেও কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত ও সংযোগ পুনঃস্থাপনে কাজ করছেন। তবে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।
মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো দ্রুত মেরামত করে পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।’
দীর্ঘ বিদ্যুৎহীনতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।






