পদ্মায় বাসডুবি
বাবার কাছে আর কখনো চিপস কিনতে বায়না ধরবে না শিশু ইসরাফিল

প্রমত্ত পদ্মায় বাসডুবিতে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে গেছে তিন বছরের শিশু ইসরাফিল। দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগেই বাবা দেলোয়ার হোসেনের কাছে চিপস খাবে বলে বায়না ধরেছিল শিশুটি। ছেলের আবদার মেটাতে বাস থেকে নেমে চিপসও কিনে দেন বাবা। হঠাৎ বাসটির ইঞ্জিন চালুর শব্দ শুনে দ্রুত ছেলেকে কোলে নিয়ে বাসে ওঠে পড়ে দেলোয়ার। কিন্তু এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বাসডুবির ঘটনায় নিজে ও স্ত্রী জীবিত ফিরতে পারলেও চিরকালের জন্য হারিয়েছেন ছেলেকে। আর কখনোই বাবার কাছে চিপস খেতে বায়না ধরবে না শিশু ইসরাফিল।
বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে পন্টুনের উপর দিয়ে সোজা পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় শিশু ইসরাফিলের বাবা দেলোয়ার হোসেন ও মা নুরুন্নাহার ডুবে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে বের হতে পারলেও বের হতে পারেনি শিশুটি।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর ঘাট পন্টুনে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীসহ নদীতে পড়ে ডুবে যায়। বাসডুবির ঘটনায় নিহত তিন বছরের শিশু কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্ডি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও মা নুরুন্নাহারের একমাত্র সন্তান।
দুর্ঘটনার পর ওইদিন মধ্যরাতেই উদ্ধার করা হয় সেই বাসটি। তখন বাসের ভেতর থেকে একে একে শিশু ইসরাফিলসহ যাত্রীদের নিথর মরদেহগুলো বের করে আনা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে রাখা হয় দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে। সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা দাঁড়িয়ে আছে সেই বাসটি, কিন্তু বাসের যাত্রীগুলো আর নেই। বাসের ভেতরে এই প্রতিবেদক প্রবেশ করে দেখতে পান, ক্ষত বাসটির মেঝেতে যাত্রীদের কারো পায়ের জুতা, ওড়না, খাবারের বাটি, দুটি শিশুর পায়ের জুতা ও বাসের পেছন দিকে একটি সিটের ওপর পড়ে আছে দুটি চিপস।
হয়তো এই চিপস খেতেই বাবা দেলোয়ার হোসেনের কাছে বায়না ধরেছিল নিহত তিন বছরের কমলমতি ছোট্ট শিশু ইসরাফিল। উদ্ধার হওয়া সেই ক্ষত বাসের ভেতরে মেঝেতে খয়েরি রঙের দুটি জুতাও পড়েছিল, কে জানে এই জুতাই পায়ে পরেছিল ইসরাফিল। বাবার কাছে বায়না করা সেই চিপস ও পায়ে পরা জুতা ঠিকই বাসের ভেতরে স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে। শুধু জীবিত নেই শিশু ইসরাফিল।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ৩ ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনার পর ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। বাসডুবির ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

