রংপুরে হামের প্রকোপ, দুই শিশুর মৃত্যু

ছবিঃ আগামীর সময়
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া শতাধিক শিশু নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে।
রংপুর বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়িয়েছে। এতে ঘরে ঘরে হাম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যার বিপরীতে শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এসব শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে একটি বেডে ২ থেকে ৩ জন শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
ওই ওয়ার্ডের ইনচার্জ শাহনাজ পারভিন জানান, বর্তমানে শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার এই ওয়ার্ডে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শয্যা সংকটসহ এত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নীলফামারীর জলঢাকা থেকে ৯ মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে আসা আজমেরী বেগম বললেন, একটি বেডে দুই শিশুকে রাখতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের দাঁড়িয়ে বা মেঝেতে বসে থাকতে হচ্ছে। একই অভিযোগ করেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মাসুমা বেগমসহ আরও অনেকে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য শিশু ওয়ার্ডের পাশে ছোট একটি কক্ষে মাত্র ৬টি বেডে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে শরীরে র্যাশ না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা কঠিন। তবে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট হামেরই লক্ষণ।
আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. খালিদ জানান, দীর্ঘদিন নিয়মিত হামের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগের বয়স ৫ মাস থেকে ১ বছর।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান তাজ জানান, এ পর্যন্ত ১৫ জন শিশুর রক্ত পরীক্ষা করে ৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। শিশুদের জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৮ জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দেড়শ’ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল থেকে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

