আগামীর সময়

পাবনায় সংকট আতঙ্কে তেল নিতে পাম্পে হুলস্থুল

পাবনায় সংকট আতঙ্কে তেল নিতে পাম্পে হুলস্থুল

ছবিঃ আগামীর সময়

​মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কা হঠাৎ পেয়ে বসেছে পাবনাবাসীদের। তেল মজুতে বৃহস্পতিবার জেলা শহরের পাম্পগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। রাত হতে হতে খালি বেশিরভাগ পাম্পের ট্যাংক।  

​সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জেলা শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন, অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন এবং রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনসহ বেশিরভাগ পাম্পে বাইকারদের দীর্ঘ সারি। তারা স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল সংগ্রহ করতে চাইলে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাথাপিছু ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেয়া যাবে না বলে ঘোষণা করেন অনেক পাম্প মালিক। রাত ১০টা নাগাদ শহরের সিংহভাগ পাম্পে ‘তেল নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

​রাধানগর এলাকায় তেল গিয়ে যান মো. সাইমন ও মো. রনি। ‘শুনেছি কাল থেকে তেল পাওয়া যাবে না, তাই তড়িঘড়ি করে এসেছি। আগে কখনও ট্যাংক ফুল না করলেও আজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পাম্প থেকে ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না’- বললেন সাইমন।

​অতিরিক্ত চাপের কারণে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে- জানালেন মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইসরাফিল।

‘পরিস্থিতি সামলাতে রাত ১০টা পর্যন্ত জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিলেও পরে সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হই।’

​জ্বালানি সংকটের এই খবর ’স্রেফ আতঙ্ক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল আহসান রেয়ন বললেন, ’সরকারের কাছে মাত্র ১৪ দিনের তেল মজুত আছে- এমন একটি বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এটি কোনো প্রকৃত সংকট নয়। দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনাই সাময়িক এই চাপের কারণ।’

শুক্রবার থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে অবৈধ মজুত ঠেকাতে খোলা বাজারে বা ড্রামে করে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

    শেয়ার করুন: