বরগুনা
দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি আট বছরেও

আট বছরেও শেষ হয়নি বরগুনা পৌর অডিটরিয়ামের কাজ। ছবি: আগামীর সময়
বরগুনায় শুরু হয়েছিল টাউন হল পৌর অডিটরিয়ামের নির্মাণ কাজ। আশায় বুক বেঁধেছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। অবশেষে পূরন হতে চলেছে দীর্ঘদিনের আশা। মাত্র দুই বছরের অপেক্ষা, তারপরই পাওয়া যাবে ৫০০ আসনের আধুনিক অডিটরিয়াম।
তাও ২০১৮ সালের কথা। সেই দুই বছর পেরিয়ে হয়েছে আট, দেখা মেলেনি কাঙ্খিত অডিটরিয়ামের। বর্তমানে কাজ পুরোপুরি বন্ধ। কবে নাগাদ এটা চালু করা যাবে, তা জানে না খোদ পৌর কর্তৃপক্ষও।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপযুক্ত মঞ্চ না থাকায় বরগুনার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই থমকে গেছে। নিয়মিত নাটক, গান, আবৃত্তিসহ বিভিন্ন আয়োজন করা যাচ্ছে না। এতে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগও কমছে। তাদের আশঙ্কা, এ কারণে তাদের একটি অংশ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় টাউন হল পৌর অডিটরিয়াম ছিল বরগুনার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয় ছিল। নিয়মিত নাটক, গান, আবৃত্তি ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে সরগরম থাকত পুরো এলাকা। এই মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছেন জেলার অনেক সাংস্কৃতিক কর্মী, যারা বর্তমানে কাজ করছেন জাতীয় পর্যায়ে।
পুরোনো ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন অডিটরিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বরগুনা পৌরসভা। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে ৫০০ আসনের আধুনিক অডিটরিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। কাজটি পায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএসি অ্যান্ড এনটি জেভি। চুক্তি অনুযায়ী, ৭ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন অডিটরিয়ামটির কাজ ২০২০ সালের ২৭ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পর আরও ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি কাজ। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার বিল।
বরগুনা খেলাঘরের সভাপতি মুশফিক আরিফ বলেন, ‘বরগুনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন একসময় স্বর্ণালি সময় পার করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চর্চার উপযুক্ত জায়গা নেই। আট বছরেও নতুন অডিটরিয়ামের কাজ শেষ না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।’
দুর্বার সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. খান নাঈমের ভাষ্য, ‘জায়গার অভাবে মঞ্চনাটকসহ নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না। আগে শিশু-কিশোররা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকত। এখন সে সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের একটি অংশ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’
বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার কাজ শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু কাজ এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন অনেকটা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা চাওয়া হবে।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. আবুল হোসেন খান। তার দাবি, অডিটরিয়াম নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ পৌর কর্তৃপক্ষ অন্য প্রকল্পে ব্যয় করেছে। ফলে কাজ শেষ করলেও বিল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বরাদ্দ ও বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা পেলে তিনি আবার কাজ শুরু করবেন বলে জানান।
বরগুনা পৌরসভার প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, ‘কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







