সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ১৯ বছরের প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, স্বাভাবিক প্রসবের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভয়ভীতি দেখিয়ে রোগীর সিজার করানো হয়। পরে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয় প্রসূতি মীমকে। পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে স্বজনদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল বলে তাদের দাবি।
তবে রাত আড়াইটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে তাকে রংপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
মীমের স্বজনদের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে গর্ভফুল বা প্লাসেন্টাসংক্রান্ত সমস্যা ছিল। তাদের অভিযোগ, গর্ভাশয়ে গর্ভফুলের অংশ বা অন্য কোনো অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে যায় এবং মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, ‘ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি বলে মনে করি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মীমের অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন। তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম, যিনি ডিএমএফ ডিগ্রিধারী।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে গোলাম রসুল রাজা বলেন, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’ প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।




