বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা

আজ বুধবার সকালে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার। ছবি: আগামীর সময়
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার। যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ভারতে কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিন পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে গিয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবুজ পাতা লাল ঘর
০১ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যেভাবে পানি বাড়ছে, এতে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধসহ নদী তীরবর্তী এলাকার উচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পাউবো এসব নিয়ে কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামত দেখিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়।শুস্কমৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো যেমন পাকাপোক্ত হবে, তেমনি নদীভাঙন আর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।
আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বললেন, ‘কয়েক দিন থেকে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে।ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পানি ভাটিতে আসলে আমাদের এলাকা ডুবে যেতে পারে।’
একই গ্রামের খতিবর রহমান বলেছেন, ‘আজকে পানি বাড়ার পরিমাণটা বেশি। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি এলাকায় শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধিদের নিয়ে চরম কষ্টে থাকতে হচ্ছে। গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও কষ্টের শেষ নেই। এরমধ্যে রয়েছে সাপ ও পোকার প্রাদুর্ভাব।
লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী পরিচালক সুনীল কুমারের ভাষ্য, ভারতের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।






