জামায়াত আমির
সরকার জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ

রবিবার সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কথা বলছেন জামায়াত আমির— আগামীর সময়
জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং একের পর এক ওয়াদা ভঙ্গ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ যে পরিবর্তন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, তার পূর্ণ প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।’
আজ রবিবার সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সবাই দেশকে ভালোবাসি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেশের দালাল মনে করি না। বরং কারো চিন্তার মধ্যে বিভ্রান্তি থাকতে পারে। দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে, দেশ ও জাতি তত বেশি উপকৃত হবে।’
‘সাড়ে ১৭ বছর আমরা একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে, কিন্তু আমাদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি এখনো আসেনি। সেই লক্ষ্য অর্জনে হয়তো আরও অনেক কিছু করতে হবে’— যোগ করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বললেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এর ফলাফল নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের ভেতরে অনেক কিছু হয়েছে, যা এখনো অনেকে স্বীকার করতে চান না। তারপরও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছি।’
‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি দেখা যাচ্ছে। যেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, সেখানে দীর্ঘদিনেও শান্তি ফিরে আসে না। নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে যেতে পারত। দেশপ্রেমিক মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে সন্দেহ ও সংঘাতের পথ এড়িয়ে চলা’— বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বললেন, ‘জনগণকে দেওয়া ওয়াদা সরকার ভঙ্গ করেছে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছিল, তার অনেক কিছুই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিল। কিন্তু এখনো অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়নে সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে।’
সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আস্থা সংকট আরও গভীর হবে।
জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘জাতীয় ঐক্যের যে চেতনা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হয়েছিল, নানা কারণে সেই ঐক্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে ভিন্নমতকে সম্মান করতে হবে। প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে দেশ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, আমরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
‘যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেই পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় জনগণের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা সৃষ্টি হবে, যা দেশের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক নয়’— মত জামায়াত আমিরের।
মতবিনিময় সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য, সংস্কার কার্যক্রম এবং জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তারা জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



