তিন বছরের জলাবদ্ধতায় গাছশূন্য ৬০ বছরের লিচুবাগান

জলাবদ্ধতায় মরে গেছে জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের সব লিচু গাছ। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের প্রায় ৬০ বছরের পুরনো লিচুবাগান এখন গাছশূন্য। তিন বছরের জলাবদ্ধতায় একে একে মারা গেছে বাগানের ১৩৭টি লিচুগাছ। এতে বন্ধ হয়ে গেছে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন। থেমে গেছে লিচু বিক্রি থেকে সরকারি রাজস্ব আয়ও।
হর্টিকালচার সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৬০ সালে বাগানটি গড়ে তোলা হয় ১৩৭টি লিচুগাছ নিয়ে। এসব গাছ থেকে সায়ন (কলমের উপযোগী ডাল) সংগ্রহ করে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন করা হতো। পাশাপাশি প্রতিবছর বাগানের লিচু বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেওয়া হতো।
দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় গাছগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে মারা যেতে থাকে। চলতি বছরের জলাবদ্ধতায় সর্বশেষ আরও আটটি গাছ মারা যায়। এরই মধ্যে মারা গেছে বাগানের সব লিচুগাছই।
সরেজমিনে হর্টিকালচার সেন্টারের এক পাশে সারি সারি মৃত লিচুগাছ দাঁড়িয়ে আছে। বাগানের বিভিন্ন অংশে জমে আছে হাঁটুপানি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় সেখানে জন্মেছে আগাছাও। জলাবদ্ধতার কারণে সেন্টারের সামগ্রিক পরিবেশও হারিয়েছে আগের সৌন্দর্য।
সেন্টারের গাছ পরিচর্যাকারী রুহুল আমিন জানিয়েছেন, একসময় হর্টিকালচার সেন্টারের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি জমে থাকায় লিচুগাছগুলো মারা গেছে। সেন্টারের অন্যান্য স্থানেও পানি জমে থাকায় পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
লিচুর দেশে
১৪ জুন ২০২৬
সেন্টারের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা লিচুগাছের জন্য সহনীয় নয়। গাছগুলো থেকে কলমের মাধ্যমে নতুন চারা উৎপাদন করা হতো। এখন গাছ না থাকায় সায়ন সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বন্ধ আছে লিচুর নতুন চারা উৎপাদনও।
জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম জানিয়েছেন, গত তিন বছরে জলাবদ্ধতার কারণে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত লিচুবাগানের ১৩৭টি গাছ মারা গেছে। এসব গাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সায়ন সংগ্রহ করে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন করা হতো। গাছগুলো মারা যাওয়ায় বন্ধ সেই কার্যক্রম।
তিনি আরও জানান, প্রতিবছর লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হতো। জলাবদ্ধতার বিষয়টি পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। জলাবদ্ধতা নিরসন হলে নতুন করে লিচুবাগান করা হবে।
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক জানিয়েছেন, হর্টিকালচার সেন্টারের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলে সেখানে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।







