ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। আজ রবিবার দুপুরের পর থেকে বরিশাল নদীবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ ও বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন অনেক যাত্রী।
আগামীকাল সোমবার সরকারি অফিস-আদালত খুলে যাওয়ায় রবিবার বিকেল থেকেই বরিশাল নদীবন্দরে যাত্রীদের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। নদীবন্দরে নোঙর করা বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর ডেক, কেবিনের সামনের করিডর এমনকি ছাদেও ছিল যাত্রীদের ভিড়। অনেক লঞ্চে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
আজ রবিবার পারাবত-১১, পারাবত-১৮, সুন্দরবন-১৫, সুন্দরবন-১৬, শুভরাজ-৯, মানামী, এম খান-৭ ও প্রিন্স আওলাদ-১০সহ অন্তত ১৪টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে কয়েকটি লঞ্চ ভায়া রুটেও যাত্রী পরিবহন করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডেকের পাশাপাশি লঞ্চের ছাদ এবং বিভিন্ন খোলা স্থানেও যাত্রীরা অবস্থান নিয়েছেন। কেবিনের সামনের জায়গাগুলোতেও বিছানার চাদর পেতে যাত্রী বসানো হয়েছে, ফলে কেবিন যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এম খান-৭ লঞ্চের যাত্রী রাকিবুল আহসান জানান, তিনি এসি সিঙ্গেল কেবিন নিয়েছেন। কিন্তু কেবিনের সামনে অতিরিক্ত যাত্রী বসানো হওয়ায় দরজা খোলা বা টয়লেটে যাওয়া পর্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানামী লঞ্চের এক যাত্রী রফিক মিয়া দাবি করেন, কেবিনের সামনের একটি জায়গা পেতে তাকে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা হলেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার বাপ্পী আহম্মেদ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তাদের লঞ্চে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৪০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং সোফা ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার গভীর রাত থেকেই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীচাপ বাড়তে থাকে। রোববার সকালে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে ঢাকাগামী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। নিয়মিত দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রুটের বাসও ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করছে।
বিএমএফ পরিবহনের যাত্রী রোকেয়া বেগম জানান, লঞ্চের টিকিট না পাওয়ায় তিনি বাসে করে ঢাকায় ফিরছেন। সাধারণ সময়ে ৬০০ টাকার ভাড়া থাকলেও তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবহন ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি আসনে প্রায় ১ হাজার টাকা ভাড়া নিচ্ছে। কিছু লোকাল বাস যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, টার্মিনালে যাত্রীচাপ অনেক বেশি। যাত্রীসেবায় মালিক সমিতি কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের হয়রানি রোধে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে।’






