বগুড়ায় ১০ মার্চ থেকে শুরু পরীক্ষামূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ

ফাইল ছবি
বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি চালু হবে, যার মধ্যে বগুড়ার শাখারিয়া ইউনিয়নও রয়েছে।
পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সুফলভোগী পরিবার বাছাইয়ে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বগুড়ায় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে পৃথক জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করা হয়েছে।
জানা গেছে, কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন। প্রতি পরিবারের একজন নারী কার্ডধারী হিসেবে নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডে যত পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে, তাঁদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এটি প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ার্ড কমিটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী আহ্বায়ক এবং আনসার–ভিডিপির দলনেতা সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন পরিবার পরিকল্পনা সহকারী ও গ্রাম পুলিশ। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহ্বায়ক এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মী সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও দফাদার সদস্য হিসেবে থাকবেন।
শাখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সুফলভোগীর তালিকা স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে কমিটিতে কোনো জনপ্রতিনিধি বা বেসরকারি ব্যক্তিকে রাখা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবার চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির দলনেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। আগামী ১০ মার্চ শাখারিয়া ইউনিয়ন থেকেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে।

