আমতলী
দুপুরের খাবারের জন্য ডাকাডাকি, ঘরে ঝুলছিল মাদ্রাসাছাত্রের লাশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরগুনার আমতলীতে মোস্তাকিম বিল্লাহ লিমন (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। পরিবারের দাবি, জিনের আছর থাকার কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, শিশুটির গলায় ফাঁস দেওয়ার আলামত ছিল না।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার বিকালে।
নিহত লিমন আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা সোহেল মিয়ার ছেলে। সে আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে খাবারের জন্য লিমনকে ডাকাডাকি করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে বিকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তার চাচা শামিম মিয়া তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচা শামিম মিয়া জানিয়েছেন, ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় লিমনকে দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, প্রায় চার মাস আগে থেকে লিমনের ওপর জিনের আছর ছিল। এরপর সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। একই সময় থেকে সে মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
আড়পাঙ্গাশিয়া দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, প্রায় চার মাস ধরে লিমন মাদ্রাসায় আসছিল না। কয়েক দিন আগে তার বাবা আবার তাকে মাদ্রাসায় পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার তার মৃত্যুর খবর শুনেছেন বলে তিনি জানান। বিষয়টিকে তিনি স্পর্শকাতর বলে মন্তব্য করেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানালেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




