কাউনিয়ায় ৩৪ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ পর্যন্ত ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত ওই রোগীর পরিচয়, ঠিকানা ও সংক্রমণের স্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত ও দেশের অন্য এলাকা থেকে আসা রোগী হিসেবে আলাদাভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত রোগীর পরিচয়, ঠিকানা কিংবা তিনি কোথা থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানকালে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অনেকে কাউনিয়ায় ফিরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ হলে তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু রোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কাউনিয়ায় এসে পরীক্ষা করিয়েছেন।
তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জ্বর হলে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে কাউনিয়ায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের সামনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণার পর নিয়মিত কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম চলছে কি না এবং এ কাজে বরাদ্দ অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ জনে পৌঁছানোয় নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ, রোগীদের ঠিকানা ও সম্ভাব্য সংক্রমণস্থল চিহ্নিতকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



