প্রতিশ্রুতি ভেসে গেল দুর্গন্ধে

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লা ফেলা বন্ধের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গতকাল রবিবার ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই একই স্থানে ময়লার স্তূপ জমা হচ্ছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে বিশাল আকারের ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা নাক-মুখ চেপে এলাকা পার হচ্ছেন। পথচারীদের অনেকেই কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে চলাচল করছেন। ময়লার স্তুপ ছড়িয়ে পড়ে সড়কের ওপরও উঠেছে, ফলে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এ পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মহাসড়কের পাশে এ ধরনের ময়লার ভাগাড় পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। দুর্গন্ধের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক চা দোকানদার জানান, পৌরসভার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ময়লা এনে এখানে ফেলছে। মানুষের কষ্ট হলেও কোনো সমাধান নেই।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে গত বছর স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেছেন, ময়লা-আবর্জনা থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা রয়েছে। ময়লায় আগুন দিলে ক্ষতিকর গ্যাস ছড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে নির্বাচিত মেয়র না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। যদিও তিনি নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে পহেলা বৈশাখ থেকে ময়লা ফেলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।
পৌরসভার কনজারভেন্সি ইনসপেক্টর সোহরাব হোসেন জানান, সড়কের পাশ থেকে অন্যত্র ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ অবস্থায় পরিবেশ ও জনস্বার্থে দ্রুত ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় এই দুর্গন্ধময় বাস্তবতা আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।



