সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় খালাস আরিফ-বাবর-গউছ

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় আদালতে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ। ছবি: আগামীর সময়
সাবেক রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলায় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন তিনজনই। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেন আদালত।
সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এই তিনজন— জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আদালতে আসামিরা জানালেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেছেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বিস্ফোরণে অল্পের জন্য বেঁচে যান এই নেতা।
তবে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন।
গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন তিনি। দুই মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর বাবর, আরিফুল, জিকে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে গঠন করা হয় অভিযোগ।
রায়ের পর যা বললেন আরিফ, বাবর ও জি কে গউছ
রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রথমে মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। তিনি আমাদের একটি ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতি করার কারণেই আমাদের দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকতে হয়েছে। অথচ এ ঘটনার বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। যথাযথ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, ‘আমাকে প্রথমে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের কথামতো কাজ না করায় আমাকে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ আরও বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়। আল্লাহর বিচার আল্লাহ করেছেন। আজ সময়ই প্রমাণ করেছে কে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।’
জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ বলেছেন, ‘আদালত সত্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সবকিছু পর্যালোচনা করে আমাদের খালাস দিয়েছেন। বিচারক স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের প্রায় সাড়ে ২৬ মাস দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক রেখেছিল।’






