বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে ময়মনসিংহে ১৩০০ শিক্ষার্থীর মিনি ম্যারাথন

ছবি: আগামীর সময়
বর্ণাঢ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উদযাপিত হয়েছে। অন্ধত্ব দূরীকরণ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরির বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ বছরের বিশ্ব দৃষ্টি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন, চোখের সেবায় সাধারণ মানুষই মূল কেন্দ্র’।
কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল তরুণদের অংশগ্রহণে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সুস্থ দৃষ্টির জন্য দৌড়’ শীর্ষক মিনি-ম্যারাথন। এতে ময়মনসিংহ শহরের ১০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে নিবন্ধন করে। তাদের মধ্যে ৪৮১ জন ছাত্রী ও ১ হাজার ১৭৯ জন ছাত্র। শেষ পর্যন্ত দৌড়ে অংশ নেয় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩১২ জন ছাত্রী ও ৯৮৮ জন ছাত্র। এ ছাড়া ৩২ জন প্রতিবন্ধী শিশুও দৌড়ে অংশ নেয়।
ভোরে দৃষ্টিনন্দন জয়নুল আবেদীন পার্ক থেকে মিনি-ম্যারাথন শুরু হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে দৌড়টি শেষ হয়। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। কম বয়স থেকেই চোখের যত্নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। দৌড় শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মিনি-ম্যারাথনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আনন্দ মোহন কলেজ, সরকারি মুমিনুন্নিসা মহিলা কলেজ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটের ২৭২ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল ও মুকুল নিকেতন স্কুলের কাব স্কাউটের সদস্যরাও সার্বিক সহযোগিতা করেন।
ম্যারাথনের পাশাপাশি জয়নুল আবেদীন প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও পরীক্ষা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সেখানে চোখের বিভিন্ন সমস্যা পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জয়নুল আবেদীন পার্কে অন্ধত্ব দূরীকরণে অর্জিত সাফল্য উদ্যাপন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘কনসার্ট ফর লাভ ইউর আইজ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে চক্ষু সেবার মূলে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুস্থ দৃষ্টির জন্য দৌড় এবং বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ক্যাম্পের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শুধু সেবাই দিচ্ছি না, বরং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলছি, যা চোখের বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয়। আমাদের উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি মানুষ যেন স্পষ্ট চোখে পৃথিবীকে দেখার সুযোগ পায়।’




