বরগুনায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন

ছবিঃ আগামীর সময়
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বরগুনায় অন্তত ১২শ পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা রোজা রেখেছিলেন সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে আটটার দিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পৃথিবীর কোথাও রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখতে হবে এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ কোথাও দেখা গেলে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে হবে, এমন বিশ্বাসের ভিত্তিতে বরগুনা জেলার অন্তত ১৫টি গ্রামে শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন। জেলার সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে আমতলী উপজেলার কাদেরিয়া তরিকার অনুসারী গোজখালী দরবার শরীফে।
এ ছাড়া বরগুনা সদর উপজেলার পাজরাভাঙ্গা, লাকুরতলা গ্রাম। বেতাগী উপজেলার লক্ষ্মীপুরা, কাজিরাবাদ, বকুলতলা গ্রাম। বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ছোনবুনিয়া গ্রামে। আমতলী উপজেলার চাওরা ও গোজখালী গ্রাম। এবং তালতলী উপজেলার আলিরবন্দর, পাজরাভাঙ্গা, নিউপাড়া ও নিদ্রা গ্রামে একদিন আগেই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আমতলী উপজেলার গোজখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু বকর খলিফা বললেন, হাদিস অনুযায়ী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ উদযাপন করতে হবে। তাই সৌদি আরবে যেহেতু চাঁদ দেখা গেছে, আমরা ঈদের নামাজ আদায় করেছি এবং পরিবার ও পাড়া- প্রতিবেশীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছি।
'নবীজির হাদিস অনুসারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। সেই নিয়ম অনুসারে আমরা ঈদের নামাজ পড়েছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। একইভাবে সৌদি আরবে যখন রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছিল, তখন আমরা রোজা রেখেছি। এ বছর ৩০টি রোজা রাখতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।' জানালেন চাওরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইদুর হাওলাদার।
পাথরঘাটা এলাকার আব্দুল কাদের নামের একজন জানান, হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবীদের বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে তা যদি তিনজন মানুষ সাক্ষ্য দেয়, তাহলে ঈদ উদযাপন করতে হবে। কিন্তু এখন মিডিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ জানতে পেরেছে চাঁদ উঠেছে। তাই আমরা ঈদের নামাজ পড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে আজ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব স্থানে পুলিশের বাড়তি নজরদারি ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

