মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় নিহত ইবি শিক্ষক রুনার সন্তানেরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিহতের স্বজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম এলাকা মজমপুর গেটে জড়ো হন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। তারা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে সড়কের ওপর অবস্থান নিলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে তারা মজমপুর গেট থেকে সড়ে গিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও বড় মেয়ে তাইবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তাইবা তার মায়ের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে সমাবেশে আবেগঘন বক্তব্য রাখে, যা উপস্থিত সবার মাঝে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।
কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেটের কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জোরালো আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষ থেকে আসমা সাদিয়া রুনার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই কক্ষ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমান চিকিৎসা শেষে বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে রয়েছেন। মামলার অন্য তিন আসামি- সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

