চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে এসে ছিনতাইয়ের শিকার তরুণী

চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে নরসিংদী থেকে টঙ্গীর উদ্দেশে রওনা হওয়া এক তরুণী সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের কবলে পড়লেও পুলিশের দ্রুত অভিযানে ঘটনার মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাইকৃত মালামালের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। গতকাল শনিবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং ৭) দায়েরের পর রবিবার (৭ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে ওসি জানিয়েছেন, নরসিংদী সদর উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসরাত আহমেদ শোভা (২৭) গত ৫ জুন রাতে টঙ্গীর একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে বাড়ি থেকে বের হন। রাত প্রায় ৯টার দিকে তিনি পাঁচদোনা সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে একটি অটোরিকশা ভাড়া করে টঙ্গীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
পথে কালীগঞ্জ উপজেলার বালীগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকায় চালক হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে উঠিয়ে নেয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ওই ব্যক্তি তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র গলায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখায়।
ছিনতাইকারী তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, হাতের তিনটি স্বর্ণের আংটি এবং ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ছিনিয়ে নেয়। পরে কালীগঞ্জ বাইপাস এলাকায় এনে তাকে সড়কে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন ভুক্তভোগী। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। অনুসন্ধানে ব্যবহৃত সিএনজির চালক হিসেবে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার আলীরটেক এলাকার আরমান মিয়ার (২৮) নাম উঠে আসে।
পরদিন সকালে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ও পলাশ থানার সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে আলীরটেক এলাকায় আরমান মিয়াকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার সহযোগী শায়ন ওরফে চয়নের (২৯) নাম প্রকাশ করেন।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত সিএনজি জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর একটি স্বর্ণের আংটি ও দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আরমান মিয়া জানালেন, ছিনতাইকৃত আইফোনটি তিনি সায়েল (২৮) নামে এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখেছেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সায়েলকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে।
ওসি জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত করছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিয়াদুল ইসলাম।





