বিদায় অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের ভাঙচুর, সংবর্ধনা ছাড়াই চলে গেলেন প্রধান শিক্ষক

পাবনার ঈশ্বরদীতে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের ভাঙচুর— সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি করায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় কেউ আহত না হলেও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।
জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম জানান, তার অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে আমন্ত্রণ না দেওয়ায় উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ২৫ থেকে ৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমানের ভাষ্য, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীন গ্রুপিংয়ের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় কেউ আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেছেন, ‘অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তবে এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং অভিযুক্ত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা ছাড়াই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার শেষ কর্মদিবস শেষ করে বাড়ি ফিরে যান।





