মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় ভাঙচুর লুটপাট

সংগৃহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, পাকুন্দিয়া পৌর সদরের হাপানিয়া এলাকার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় এবং পাশের মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের কার্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা কার্যালয়ে থাকা আলমারি, টেবিল, চেয়ারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী ভাঙচুর করে। এ ছাড়া বিদ্যুতের মিটার, ফ্যান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্রও নিখোঁজ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়ার অনুরোধ করছি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় দুটি পাকুন্দিয়া থানা থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা টের পায়নি। এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ঘটনাটি মধ্যরাতে ঘটেছে। তখন আমরা বাইরে দায়িত্বে ছিলাম। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি।’ গতকাল শুক্রবার বিকালে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেছেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




