খুলনা
রাইস ট্রান্সপ্লান্টারে ধান রোপণ, কমছে খরচ ও সময়

ছবি: আগামীর সময়
ধান রোপণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, শ্রম ও সময় সাশ্রয় এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে খুলনার বটিয়াঘাটায় প্রথমবারের মতো রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ১৫ একর জমিতে ধান চাষ শুরু হয়েছে। তুলনামূলক কম সময়ে ও কম খরচে চারা রোপণ করা সম্ভব হওয়ায় এ প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার গঙ্গারামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধান রোপণ প্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত কৃষক মাঠ দিবসে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, কৃষিতে শ্রমিকের সংকট, শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি এবং সময়মতো কৃষিকাজ শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কারণে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধান রোপণের মতো শ্রমনির্ভর কাজে যন্ত্রের ব্যবহার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাঠ দিবসের আলোচনাসভায় কৃষকেরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে ৩৩ শতাংশ জমিতে ধান রোপণে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে একই পরিমাণ জমিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা।
আলোচকেরা উল্লেখ করেন, শুধু যন্ত্র সরবরাহ করলেই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ টেকসই হবে না। মানসম্মত চারা, দক্ষ চালক ও মেকানিক এবং স্থানীয় পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে।
মাঠ দিবসে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সলিডারিডাট-এর কনসালট্যান্ট ও কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যক্ষ কৃষিবিদ ড. এস এম ফেরদৌস, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মামুনুর রশিদ, সিমিটের যশোর অঞ্চলের সমন্বয়ক কৃষিবিদ মো. জাকারিয়া হাসান, ক্লাইমেট স্মার্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফজলুল হক মনি, পার্টনার প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মো. মোসাদ্দেক হোসেন, বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক এবং লোকজের নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রসাদ সরকার।




