দাকোপে সারের সংকট, বাড়তি দামের অভিযোগ

সারের দোকান
খুলনার দাকোপে চলতি আমন মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।
চালনা, তিলডাঙা, কামারখোলা ও বাজুয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সার না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দাকোপে মোট চাষাবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২০ হাজার ৫৯৭ হেক্টর। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমন ধান এবং ২৯৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ফসলে সারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে প্রান্তিক কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
তিলডাঙা এলাকার কৃষক রবীন্দ্রনাথ সরদার ১৮ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না। ডিলারদের কাছে সার কিনতে গেলে ‘আজ না কাল দেবে’ বলে ঘোরানো হয়, কিন্তু সার দেওয়া হয় না। আবার কোথাও সার পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারায় ধানের পাতা হলুদ ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের সংকট বেশি।
একই ভোগান্তির কথা জানালেন কামারখোলা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশান্ত গোলদার।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে আমি নিজে ইউরিয়া সারের জন্য আমাদের ইউনিয়নের সার ডিলার ও ওয়ার্ডের সাব-ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হয়রান হয়েছি। শুধু আমি নই, আমার মতো বহু কৃষকেরই একই দশা।’ তার অভিযোগ, অনেক ডিলার প্রকাশ্যে ‘সার নেই’ অজুহাত দেখিয়ে গোপনে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় তারা সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এতে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সার ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা জানান, চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ কম পাওয়ায় কৃষকদের পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলি মজুমদার বলেন, উপজেলায় কোনো সারের সংকট নেই। তিনি জানান, এ বছর ১০০ মেট্রিক টন সারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ‘আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।
শিউলি মজুমদার আরও জানান, অনেক সময় কৃষকেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার কিনে মজুত করে রাখেন। এতে কৃত্রিম বা সাময়িক সংকট তৈরি হয়। সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কৃষি বিভাগ নিয়মিত ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকান মনিটরিং করছে এবং তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।



