আগামীর সময়

ঝড়-বৃষ্টিতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ভোগান্তি, তবু থামেনি ঘরমুখো মানুষের স্রোত

ঝড়-বৃষ্টিতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ভোগান্তি, তবু থামেনি ঘরমুখো মানুষের স্রোত

ছবিঃ আগামীর সময়

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে ঈদে গ্রামের বাড়ি ফিরছে হাজারো মানুষ। তবে ঝড়-বৃষ্টি আর নৌযানের সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। সব বাধা পেরিয়েও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে পরিবার নিয়ে বাড়ির পথে ছুটছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। ঘাট পার হতে এসে নানা কারণে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। তবু কষ্ট সঙ্গী করেই বাড়ির পথে রওনা দেন তারা।

ঈদযাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ও আশপাশের পোশাক কারখানায় ছুটি হলে বিকেল থেকেই যাত্রীচাপ বাড়তে থাকে। যাত্রী পারাপারে ১৮ থেকে ২২টি লঞ্চ চলাচল করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় বিপাকে পড়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট কেটেও অনেক যাত্রী লঞ্চে উঠতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রী ও টিকিট কালেক্টরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সাময়িকভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এর মধ্যে বৈরি আবহাওয়ায় নতুন করে ভোগান্তি বাড়ে। রাত পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত ঝড়ো বাতাসের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ঘাটে আটকা পড়ে হাজারো যাত্রী ও যানবাহন।

বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগে রূপ নেয়। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ব্যাগ-ব্যাগেজ ও পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করতে হয়। নারী ও শিশুরা পড়েন বেশি বিপাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে না পেরে ভোগান্তি বেড়ে যায়।

এদিকে ফেরি ও লঞ্চ সংকটের অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ চলাচল করলেও বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকামুখী দুই কিলোমিটারের বেশি এলাকায় দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যানজটে আটকে পড়ে নাকাল অবস্থায় পড়েন যাত্রীরা।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. সালাম হোসেন জানান, সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল। দুপুরে কিছুটা কমলেও বিকেল থেকে আবার চাপ বাড়ে। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ১৭টি ফেরি চালু রয়েছে।

'সন্ধ্যার পর নদীতে ঝড়ো বাতাস শুরু হলে প্রায় এক ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এতে ঘাটে চাপ বেড়ে যায়। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল আবার শুরু হয়।' যোগ করেন তিনি।

কিছুটা ভোগান্তি হলেও যাত্রীরা নিরাপদে পার হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    শেয়ার করুন: